জাবির তাজউদ্দীন আহমদ হলে ১১টি বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন, আরও তিন তলায় বসানোর পরিকল্পনা।
মোঃ শাকিল হোসাইন, জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে আধুনিক মানের পানির ফিল্টার স্থাপন করছে হল প্রশাসন। সর্বশেষ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) হলের চতুর্থ ও অষ্টম তলায় নতুন দুটি ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে হলে মোট ১১টি বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন করা হলো।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, হলের নিচতলায় ডাইনিং, করিডর, রিডিং রুম ও হলের দোকানের সামনে চারটি ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন তলায় পর্যায়ক্রমে ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয়, পঞ্চম ও দশম তলায় নতুন ফিল্টার স্থাপন বাকি রয়েছে। তবে পঞ্চম তলায় সাবলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। হলের প্রতিটি তলায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খোন্দকার লুৎফুল এলাহী বলেন, “আপাতত কয়েকটি তলায় পানির ফিল্টার স্থাপন বাকি রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি তিনটি তলাতেও আধুনিক মানের ফিল্টার স্থাপন করা হবে, ইনশাআল্লাহ। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাহিদা ও দাবিগুলো পূরণে আমরা সব সময় চেষ্টা করে যাব।”
তিনি আরও বলেন, “ফিল্টারের গুণগত মান ও সংখ্যার দিক থেকে আমাদের হল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য হলগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।”
হল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে আবাসিক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পানীয় জলের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সুস্থ থাকার পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতেও সহায়ক। আবাসিক হলে সুপেয় পানির সহজলভ্যতা শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হলের ৫০তম ব্যাচের আবাসিক শিক্ষার্থী রাজু বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর এলাকার পানি তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন হলে পানির নমুনা পরীক্ষা করে ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা সময়ের দাবি। হল প্রশাসনের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”
বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হলের পরিবেশ উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে হল প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে হলের দক্ষিণ পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হলের পরিবেশকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া হলের গেস্ট রুমের নান্দনিক সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে দেয়াল সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ কেনা হয়েছে। রং করা ও ফিনিশিংয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বৃক্ষরোপণ এবং আবাসিক স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধনের মতো উদ্যোগগুলো হলের পরিবেশকে আরও স্বাস্থ্যকর, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তুলবে। বিশেষ করে নিরাপদ পানীয় জল শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে, যা তাদের নিয়মিত পড়াশোনা, মানসিক স্বস্তি ও সামগ্রিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
হল প্রশাসনের এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত, স্বাস্থ্যকর ও পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে আশা করছেন শিক্ষার্থীরা।
Leave a Reply