“একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে শাকিবের মন্তব্য”
সাজিম মোল্যা,জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ
আচ্ছা একটা বিষয় নিয়ে কথা না বলে পারতেছি না আর। আপনারা আমাদের শিক্ষক আপনাদের জন্য আজ মানুষ হয়েছি। আপনাদের বিরুদ্ধে কথা বলা টা পাপ হবে। কিন্তু যেটা বাস্তব সেটা তো বলতে ই হবে। একজন শিক্ষক তার বেতন কতো ১২ হাজার শুরু তে??? আচ্ছা ধরলাম ১২ হাজার এবার আসেন আপনাদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে একটু কথা বলি। আপনার যতদিন চাকরি করেন না কেন। নিজ জেলার বাহিরে কি কেউ যান??? যান না। প্রতিদিন কাজ কি?? সকাল ৯ টায় স্কুলে যান। বেশ ৮ টায় ঘুম থেকে উঠে গরম ভাত খেয়ে স্কুলে যায়। স্কুল এ এসে কাজ কি?? মাটি কাটেন?? ঘাস কাটেন?? দৌড়াদৌড়ি করেন??? গরবে টানা ৪ ঘন্টা দাড়িয়ে ক্লাস নেন?? নেন না। আপনার ১০ টায় স্কুলে গিয়ে লাইব্রেরি তে ফেন এর নিচে বসে গল্প করেন আর ক্লাস এর সময় হলে ১ ঘন্টা গিয়ে টেবিল চেয়ার এ বসে ফেন চালিয়ে ক্লাস নিয়ে আবার লাইব্রেরি তে এসে ১ ঘন্টা রেস্ট নিয়ে আবার ক্লাস এ যান। ৪ টার সময় ছুটি। চলে আসেন বাড়ি তে এসে পরিবার কে সময় দেন। পুরা বিকাল রাত আপনারা বাড়ি তে কাটান। শুক্রবার ,শনিবার তো কোন কথা ই নাই পুরা ই বন্ধ। তার পর ও আপনাদের এতো অভিযোগ???????? এবার আসেন একজন সৈনিক এর গল্প শুনে যান। একজন সৈনিক হাড় ভেঙ্গা ট্রেনিং করে এসে প্রথম বেতন শুরু ৯৫০০ টাকা থেকে। আপনাদের প্রতিদিন এর কাজ তো বললাম এবার সৈনিক এর কাজ টা শুনুন। একজন সৈনিক এর প্রথম কাজ ভোর ৫ টায় ঘুম থেকে উঠা। উঠে ই ঘুমন্ত চোখ মুছতে মুছতে বেসিন এ গিয়ে সেফ করতে হয়। পারবেন আপনারা?? পরে আসেন সেফ করে পিটিতে যেতে হয় শুকনা জামা পরে যায় পুরা ঘামে ভিজিয়ে আনে কি করে যানেন???? নানান ধরনের পিটি , ৩ কিলো দৌড় টাইম ধরে। পারবেন আপনারা শিক্ষক রা যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ এটা চালু করে দেওয়া হয়। পারবেন না। পরে আসি পিটি শেষ করে এসে। ৪০ মিনিট টাইম গোসল করতে হবে খেতে হবে ইউনির্ফম পরে ফলিন এ যেতে হবে দেরি হলে। মালিশমেন্ট শুরু। আর আপনারা স্কুলে ২ ঘন্টা দেরি করে গেলে ও কিছু যায় আসে না। পরে আসেন ফলিন এ যাওয়ার পর বিভিন্ন কাজে দেওয়া হয় ,যেমন ধরেন ঘাস কাটা, লাইন পরিষ্কার করা ,অফিস এর কাজ ট্রেনিং এর কাজ এ গুলা করতে করতে ২ টায় শেষ হয় অফিস। এসে আবার গোসল করে খেয়ে একটু বিছানায় পিঠ লাগাতে,লাগাতে ৩ টা বাজে । ৪ টায় আবার বাশি দেয় গেমস এর জন্য। আবার গেমস ড্রেস এ রেডি হয়ে সবার গেমস এ যেতে হয়। ৫ টার সময় এসে আবার ৬ টার মধ্যে খাওয়ার শেষ করতে হয়।না হলে আবার খাবার পাওয়া যায় না। খেয়ে আবার রোল কলে যেতে হয়। রুমে আসতে ,আসতে রাত ৮ টা বাজে। আবার আছে নাইট ডিউটি ২ ঘন্টা টানা দাড়িয়ে ডিউটি করে এসে ৪ ঘন্টা পর পর আবার ২ ঘন্টা ডিউটি করতে হয়। আপনাদের কোন শিক্ষক কে করতে হয় নাইট ডিউটি???? পারবেন রাত ১০ টায় ডিউটি শেষ করে রুমে আসতে ,আসতে ঘুমাতে ঘুমাতে ১১ টা বাজে আবার ২ টায় ডিউটি যেতে হবে ডিউটির ২০ মিনিট আগে উঠে আবার ডিউটি তে যেতে হয়। রাতে ৩ বার ইউনির্ফম বুট খুলতে হয় ,পরতে হয়। পারবেন স্যার আপনারা???? পারবেন না। কিন্তু ১৮ বছর এর একটা ছেলে পারে। সে পারে ৯ হাজার টাকায় তার পরিবার চালাতে এবং সে চলতে। সে পারে রাত জেগে ডিউটি করতে।একজন সৈনিক পরিবার এর মুখ দেখে না কতদিন যানেন??? টানা ২ মাস ৩ মাস কখন ও ৪ মাস পর। এবং বাড়ি থেকে তার কর্মসংস্থাল এর দূরত্ব প্রায় ৩০০ কিলো মিটার। একটা খারাপ সময় এ পারে না পরিবার এর পাসে দাড়াতে। একটা মানুষ মারা গেলে পারে না তাকে একটু শেষ দেখা দেখতে যেতে। পারে না বাড়ি তে একটা বিয়ের আয়োজন হলে উপস্থিত থাকতে। পারে না মা একটু মজার খাবার রান্না করলে খেতে। আরে আপনারা পরিবার এর কাছে থেকে এতো শান্তি তে চাকরি করে ও যদি এতো চাহিদা,দাবি, হয় তাহলে একজন সৈনিক এর কতোটা চাহিদা থাকার দরকারছিলো বলতে পারেন। আপনি রাতে নিশচিন্তে বৌ,বাচ্চা নিয়ে ঘুমান আর ১৮ বছর এর সৈনিক টা রাত জেগে অস্ত্র ,বুলেট নিয়ে জেগে থাকে দেশ পাহারা দেয় কখন কোন জায়গা থেকে শক্রুর একটা বুলেট এসে শেষ করে দিতে পারে এই ভয় টুকু ও নাই সৈনিক দের ভেতরে। কারন তার জীবন এর থেকে দেশ বড়। আর আপনি একজন শিক্ষক রাতে নিরিবিলি ঘুমাতেছেন। ৩ মাস পর একজন সৈনিক ছুটি যায় ১০ দিন এর যেতে গাড়ি ভাড়া লাগে ২০০০ বাড়ি তে ফল নিতে হয় আরো ১৫০০ টাকার। ছুটি শেষ করে আসার সময় ভাড়া লাগে আরো ২০০০ ছুটি তে থাকা কালিন কি তার খরচ নাই?? আছে ছোট ভাই রা তাকিয়ে থাকে তাদের কে ও দেখতে হয়। তা ও পারে একজন সৈনিক ৯৫০০ টাকার মধ্য সব মানিয়ে নিতে। কিন্তু আপনারা পারেন না স্যার। আরে আপনাদের বেতন যদি এখন ১০ হাজার বাড়ানো হয় তাহলে ১ জন সৈনিক এর বেতন ৪০ হাজার টাকা বাড়ানো উচিৎ। এ তো সুধু একটু নমুনা দিলাম ৯৫০০ টাকা বেতনের সৈনিক এর আরো কতো ভয়ানক কাজ আছে সেটা শুনলে জানলে আপনি মেনে নিতে পারবেন না। কিন্তু তারপর ও আপনাদের এতো চাহিদা এতো এতো দাবি ,দবা। আরো অনেক কিছু লিখতে মন চাইতেছে কিন্তু পারলাম না কারণ আপনার না থাকলে আজ এইখানে আসতে পারতাম না। কিন্তু একটু মিলিয়ে দেখবেন কতো টা সুখে আছেন আপনি আর একটা ১৮ বছরের ছেলে পরিবার ফেলে কতো দূরে আছে সে কেমন আছে। কোন ভুল হলে মাফ করবেন। কিন্তু আপনাদের সকলের বিবেক এর কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম। ভেবে দেখবেন সবাই
আল্লাহ হাফেজ।
লেখা – আমার নিজের মন থেকে বিবেক থেকে
Leave a Reply