“নিয়মিত বাজার মনিটরিং নেই খুলনায় চড়া দামে সব্জি কিনতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ জনগণ”
মো: মাহমুদুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি, খুলনা।
খুলনার বাজারে শীতকালীন সবজি এলেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে দাম। মৌসুম চলমান থাকলেও নানা অজুহাতে সবজির মূল্য স্বাভাবিক পর্যায়ে নামছে না। গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দামেও নতুন করে বৃদ্ধি দেখা গেছে। একই সঙ্গে মাছ ও মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই, ফলে ক্রেতাদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে। ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, অল্প কারণেই অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে। বিক্রেতাদের দাবি—সরবরাহ কম থাকায় তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য।
একজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, বাজারে অধিকাংশ সবজির দামই ৫০ টাকার উপরে। গত বছর এই সময়ে সবজির দাম অনেক কম ছিল। কিন্তু এবার কোনো কারণ ছাড়াই সবজির দাম বেশি। মানুষ আগে ১০০ টাকায় ব্যাগ ভরে সবজি নিতে পারতো। এখন এক থেকে দুই প্রকার সবজি কিনতেই ১০০ টাকা শেষ। এটি বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটের কারণ।
গত শুক্রবার খুলনার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম প্রকারভেদে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। সবজির মধ্যে বেগুন কেজি ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০-২০০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, ঢেঁড়শ ৮০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, মূলা ও বাঁধাকপি ৫০ টাকা, পটল ৭০ টাকা এবং লালশাক, লাউশাক ও পালংশাক ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু কেজি ৩০ টাকা, দেশি রসুন ১০০-১৬০ এবং চীনা রসুন ২০০ টাকা।
মাংসের বাজারেও বেড়েছে চাপ। ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৬০ টাকা, সোনালি ও কক ২৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১১০০ টাকা। মাছের মধ্যে দুই কেজি ওজনের রুই কেজি ৩৫০, পাঙ্গাস ১৬০-১৮০, তেলাপিয়া ২০০-২২০, দেশি কৈ ৫৫০, বাগদা ৮৫০, গলদা ১১০০, বড় পারশে ৯০০, টেংরা ৬৫০-৮৫০, ভেটকি ৮৫০ এবং দেশি শিং ১২০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
আরও একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গতবারের তুলনায় এ বছর সবজির দাম বেশি। ছেলে- মেয়েদের পড়াশোনার খরচ, বাড়ি ভাড়া দিতেই হিমসিম খেতে হয়। এ জন্য অনেক চিন্তা ভাবনা করে দরদাম করে বাজার করতে হয়।”
সবজি ব্যবসায়ী মোঃ জাকির হোসেনের মতে, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে বৃষ্টির ফলে সবজি খেত নষ্ট হওয়ায় দাম বেশি রয়েছে। এজন্য বেচা-বিক্রিও কিছুটা কম।
অন্যদিকে, শীতের সবজিতে বাজার জমজমাট হলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম এখনও কেজিপ্রতি প্রায় একশ টাকার কাছাকাছি ঘুরছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় দুই-একটি সবজির মূল্য সামান্য কমলেও সামগ্রিকভাবে দাম একই রকম রয়েছে।
বাজারে ফুলকপি ৮০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা ও খিরাই ১০০ টাকা কেজি দরে মিলছে। এ ছাড়া বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ‘পেঁয়াজের কালি’, যার দাম কেজি ২৮০ টাকা। তুলনামূলকভাবে মুলা ও বাঁধাকপির দাম কম—কেজি ৪০ টাকা।
লাউয়ের দাম বাড়তি। গত সপ্তাহে ৩০-৪০ টাকায় লাউ বিক্রি হলেও শুক্রবার তা ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
টানা তিন সপ্তাহ পর পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে ১০০ টাকায় নেমেছে, যেখানে আগের সপ্তাহে ছিল ১১০ টাকা। কিন্তু কাঁচামরিচের দাম উল্টো বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজি ২০০ টাকায়।
শীতের সবজির দাম না কমায় হতাশ ক্রেতারা। এক ক্রেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, শীতের সবজি প্রচুর থাকলেও দাম কমছে না; ফলে দুই কেজি সবজি কিনতেই ২০০-২৫০ টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিক্রেতাদের বক্তব্য—পাইকারিতে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা দামে সমন্বয় করা যাচ্ছে না। মিস্ত্রিপাড়া বাজারের সবজি ব্যবসায়ী সোহেল গাজী বলেন, ‘আমরা তো চাই কম দামে বিক্রি করতে, কিন্তু পাইকারিতেই দাম বেশি। যে দামে কিনি, তার চেয়ে কমে তো বিক্রি করা সম্ভব নয়।’
এদিকে গত এক সপ্তাহে সব ধরনের মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা, সোনালি ২৫০ টাকা, কক ২৬০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫০০ টাকা কেজি দরে।
Leave a Reply