“বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া”
মোঃ মানিক মিয়া,স্টাফ রিপোর্টার,
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অন্যতম নাম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ চার দশকের ও বেশি সময় ধরে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা র সংগ্রামে যিনি ছিলেন আপোষহীন এক নেতৃত্বের প্রতীক।তার জীবন ছিল সাহস, ত্যাগ ও অবিচলতার এক অনুপম দৃষ্টান্ত।
তিনি ১৯৪৫ সালের ১৫ আগষ্ট দিনাজপুর জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন।তার রাজনৈতিক জীবনের সুচনা ঘটে এক গভীর জাতীয় শোক ও সংকটের মধ্য দিয়ে। ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।সেই সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল অস্থিরতা ও স্বৈরশাসনের ছায়ায় আচ্ছন্ন।।
১৯৮২ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে তার নেতৃত্ব গুণ, দৃঢ়তাও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে দলীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন যা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার ভুমিকা ছিল ঐতিহাসিক।
১৯৯০ সালে তিনি গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং এর ফলশ্রুতিতে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। আপোষহীন অবস্থান ও দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে তিনি পরিচিত লাভ করেন আপোষহীন নেএী হিসেবে।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।এর মাধ্যমে তিনি শুধু দেশের ইতিহাসেই নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিতে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে ন।তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।
পরবর্তীতে তিনি আরও দুইবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৬-২০০১ সালে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনীতি, শিক্ষা, অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করে।
বিশেষ করে ২০০১-২০০৬ সময়কালকে বিএনপির সমর্থ করা উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার সময় হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন।তবে তার রাজনৈতিক জীবন ছিল কেবল সাফল্যে ভরা নয়, ছিল বহু উত্থান -পতন, দমন- পীড়ন ও কারবরণের কঠিন অধ্যায়।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা র সংগ্রামে তাকে একাধিক বার কারাগারে যেতে হয়েছে। দীর্ঘদিন তিনি অসুস্থতা নিয়েও রাজপথ রাজনীতিতে অবিচল থেকেছেন।
২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন।দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোর ৬ টায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধে উঠে সর্বস্তরের মানুষ তার অবদান স্মরণ করেছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায়।
আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, দলীয় নেতা কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান বানিয়ে দেন। আমিন।
Leave a Reply