1. admin@dainikswadesherkantha.com : ADMIN :
  2. jakirjnu65@gmail.com : Admin : Admin
  3. Sajuahmedbd97@Gmail.com : Saju Ahmed : Saju Ahmed
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
ঘোড়াঘাট পৌরসভার ১১টি দুর্গামন্দিরে বিএনপির পক্ষ থেকে ৫৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। ঘোড়াঘাটে ১৯৮ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার জাকিরুল (৩৯) নামে এক ইউপি সদস্য” কয়রার মহেশ্বরীপুরে বিএনপির নতুন মুখ:চেয়ারম্যান পদে শেখ মেহেদির প্রার্থিতা একের পর এক অভিযানে সাফল্য, আলোচনায় লালপুরের এএসআই নাহিদ। রেলের টিকিটিং সফটওয়্যার কি এবার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আসবে? খাগড়াছড়ি সীমান্তে ৫৩ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ দুর্গাপূজা ঘিরে সীমান্তে বিজিবির নজরদারি জোরদার। ঘোড়াঘাট থানা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার ( ভূমি)ও পৌর প্রশাসককে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, তার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে” — এমপি হেলেন জেরিন খান। যুক্তরাজ্যে সফররত ক্রীড়ানুরাগী শিপুর সাথে ক্যামডেন টাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত” খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত”

রেলের টিকিটিং সফটওয়্যার কি এবার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আসবে?

  • আপডেট : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৬ জন দেখেছেন

রেলের টিকিটিং সফটওয়্যার কি এবার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আসবে?

হৃদয় চন্দ্র দাস | বিশেষ প্রতিনিধি

সহজ ডটকমের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে, সরকারি সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে সরকারি নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরির বিষয়টি। রেলওয়ের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে—এমন আলোচনার মধ্যে নতুন করে টিকিটিং ব্যবস্থাপনার জন্য দরপত্র আহ্বানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে চুক্তির মেয়াদ ও পরবর্তী দরপত্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন খাত বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী অনলাইনে ও বিভিন্ন মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করেন। এই বিশাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যার, যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং টিকিট বিক্রির আর্থিক ব্যবস্থাপনা—সবকিছুই জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের টিকিটিং ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কেন সরকারি নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় পরিচালিত হবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্ট ও সচেতন নাগরিকদের অনেকে। তাঁদের মতে, দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব টিকিটিং সফটওয়্যার তৈরি ও পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক সফটওয়্যার প্রকৌশলী, ডেভেলপার ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান কাজ করছেন। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করছে। এসব সফটওয়্যার বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য নিজস্ব টিকিটিং সফটওয়্যার তৈরি করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

সরকারি উদ্যোগে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও কার্যকর টিকিটিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তিগত নির্ভরতা কমানো, ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং সফটওয়্যারের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এ ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজন দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যকর জবাবদিহি।

রেলের অনলাইন টিকিট কেনার ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্ম চার্জের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রতি টিকিটে ২০ টাকা করে চার্জ নেওয়া হলে, বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রির কারণে সম্মিলিতভাবে এর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, প্রতি টিকিটে ২০ টাকা চার্জ ধরে এক কোটি টিকিট বিক্রি হলে মোট চার্জের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ কোটি টাকা। এটি কেবল একটি গাণিতিক উদাহরণ; প্রকৃত আয় নির্ধারণ করতে নির্দিষ্ট সময়ের মোট টিকিট বিক্রি, চার্জের প্রযোজ্যতা, মওকুফ এবং অর্থ বণ্টনের তথ্য যাচাই করতে হবে।

যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া প্রতিটি অতিরিক্ত অর্থের যৌক্তিকতা ও ব্যবহার সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগ্রহী নাগরিকেরা। রেলের টিকিটিং ব্যবস্থা শুধু টিকিট বিক্রির মাধ্যম নয়; এর সঙ্গে যাত্রীদের পরিচয়সংক্রান্ত ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যও জড়িত। ফলে এসব তথ্যের নিরাপত্তা, সংরক্ষণ, ব্যবহার এবং কারা কোন তথ্য ব্যবহারের অনুমতি পাচ্ছে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ নীতিমালা থাকা জরুরি।

যদি কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চুক্তির ভিত্তিতে টিকিটিং ব্যবস্থা পরিচালনা করে, তাহলে চুক্তিতে তথ্যের মালিকানা, প্রবেশাধিকার, নিরাপত্তা, তথ্য সংরক্ষণের মেয়াদ এবং চুক্তি শেষ হওয়ার পর তথ্য হস্তান্তরের শর্ত কী রয়েছে, তা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় এলে সংশ্লিষ্ট সিস্টেমে কোন তথ্য সংগ্রহ করা হয়, কোন কর্তৃপক্ষ তা নিয়ন্ত্রণ করে এবং কীভাবে তথ্য সুরক্ষিত রাখা হয়—এসব বিষয় নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

রেলের টিকিটিং ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলে সরকারি নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরির সম্ভাবনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার চাইলে নিজস্ব প্রযুক্তি দল গঠন, দেশীয় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় কাজ করা কিংবা সরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা কাজে লাগানোর মতো বিকল্প পর্যালোচনা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে শুধু সফটওয়্যার তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ, যাত্রীসেবার মান, টিকিটের প্রাপ্যতা, সাইবার হামলা প্রতিরোধ, তথ্যের গোপনীয়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা পুনরুদ্ধারের সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি, সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হলে ব্যয় কত হবে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনার তুলনায় কোন ব্যবস্থায় সেবা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি ভালোভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব—তা নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও রেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতের টিকিটিং ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কতটা গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অযৌক্তিক নয়। তবে সরকারি নিজস্ব সফটওয়্যার একেবারেই নেই—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য ও বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই প্রয়োজন।

তবে নতুন চুক্তিতে কোন প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পাবে, কী শর্তে চুক্তি হবে এবং সরকারি নিজস্ব ব্যবস্থাপনার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা তথ্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই খাতে যাত্রীসেবার মান, তথ্যের নিরাপত্তা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সরকারি জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট বক্তব্য ও কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন সচেতন নাগরিকেরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ
আইটি সহযোগিতায়: আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির