“সেন্ট জোসেফ স্কুলে বিজ্ঞান চিন্তা প্রদর্শনী,
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী নানা জিনিসের পসরা”
রহমাতুল্লাহ, খুলনা শহর প্রতিনিধি
খুলনা বিভাগের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের নানান উদ্ভাবনী প্রদর্শন করেছে। দুই ক্যাটাগরির ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একটি ক্যাটাগরিতে অংশ নিয়েছে প্রজেক্ট প্রদর্শনীতে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ছিল কুইজ প্রতিযোগিতা। কুইজ প্রতিযোগিতায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম এবং অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। প্রদর্শনীতে ছিল বাংলার জন্য কোডিং ব্যবহার করে ইন্টার বাংলা এআই, এআই ব্যবহার করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও স্মার্ট এগ্রিকালচারে প্রযুক্তির ব্যবহারসহ নানান প্রজেক্ট। ১০ জেলার বিভিন্ন স্কুলের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
গতকাল শুক্রবার সেন্ট জোসেফস উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বিকাশ-বিজ্ঞানচিন্তা বিজ্ঞান উৎসবে আয়োজক প্রথম আলো। সহযোগিতায় বন্ধুসভা খুলনা। সকাল ৯টায় বেলুন উড়িয়ে, জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে ‘বিজ্ঞানমনস্ক হওয়ার প্রত্যয়ে’ আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের প্রজেক্ট মূল্যায়ন করছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।৬০টির বেশি প্রজেক্ট প্রদর্শনী জন্য শিক্ষার্থীরা নিবন্ধন করে। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলে। প্রজেক্ট এ ৭টি দলকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রথম স্থান অর্জন করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। কুইজ প্রতিযোগিতায় মোট ১০জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
প্রজেক্ট এবং কুইজ প্রতিযোগিতার পর ছিল সাংস্কৃতিক পর্ব। এরই মধ্যে সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে শুরু হয় আলোচনা পর্ব। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব, বিজ্ঞান ম্যাজিক শো ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দুপুরে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই উৎসব। ম্যাজিক শো দেখান জাদুশিল্পী ব্রাইটস্টার এম সায়মন।
উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও উৎসবের পতাকা উত্তোলন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনার সেন্ট জোসেফস উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ভেন্যুপ্রধান আলফ্রেড রনজিৎ মÐল, বিকাশের ইভিপি এবং রেগুলেটরি অ্যান্ড অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের প্রধান হুমায়‚ন কবির, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান, বিজ্ঞানচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার, প্রথম আলো খুলনা প্রতিনিধি উত্তম মÐল, খুলনা বন্ধুসভার সভাপতি প্রফেসর কাজী মাসুদুল আলম, উপদেষ্টা ড. তুহিন রায়, বনানী আফরোজাসহ অন্যান্য বন্ধুরা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খুলনা বন্ধুসভার সহসভাপতি এম এম মাসুম বিল্যাহ।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন খুলনার প্রতিনিধি উত্তম মÐল। তিনি বলেন, তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে বদলে দেবে। তোমাদের ভাবনা, তোমাদের পরীক্ষা, তোমাদের ছোট ছোট উদ্ভাবন-এসবই তৈরি করবে আলোকিত আগামী। প্রথম আলো সব সময়ই চায় এমন এক প্রজন্ম, যারা যুক্তিতে বিশ্বাস করবে, আলোয় চলবে, আর বিজ্ঞানের শক্তিতে সমাজকে এগিয়ে নেবে।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান বলেন, বিজ্ঞানকে ভালবাসতে শিখো। প্রযুক্তি আমরা ততটুকুই ব্যবহার করব, যতটুকু আমাদের দরকার। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবেু। ১০টার মধ্যে ঘুমাতে হবে। বর্তমানে শিশু, কিশোররা অল্প বয়সে প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা দুঃখজনক।
বিকাশের ইভিপি এবং রেগুলেটরি অ্যান্ড অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের প্রধান হুমায়‚ন কবির বলেন, মানুষের চেয়ে তার স্বপ্ন বড়। ভবিষ্যতের জন্য এখনই সুন্দর করে তোমাদের প্ল্যান করতে হবে। নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বিকাশের এ্যাপস আমেরিকান কোম্পানি তৈরি করেছে। ১৪ মাস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তৈরি। অন্ধ, বধির ও অক্ষর জ্ঞানহীন ব্যক্তি ও ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারে।
সেন্ট জোসেফস উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফ্রেড রনজিৎ মÐল বলেন, আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি বা প্রত্যাশা করি, কেউ বিজ্ঞানী হবো, ডক্টর হবো এবং কেউ শিক্ষক হবো। সেই স্বপ্নকে কাজে লাগাতে হবে। স্বপ্ন ছাড়া আমাদের জীবন পরিপক্কহীন। নতুন স্বপ্ন নিয়ে বিজ্ঞানকে জানতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে নতুনত্ব আবিষ্কার করতে হবে। সারা বিশ্বের বিজ্ঞান এখন অনেক এগিয়ে।
Leave a Reply