“শিক্ষকদের আন্দোলন—ন্যায্য দাবির গণজাগরণ”
মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ
গতকাল রোববার শিক্ষক-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে “খালি থালা / প্লেট হাতে ভুখা মিছিল” অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টা থেকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় এই প্রতীকী কর্মসূচি। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য—শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও উপেক্ষিত অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজ জাতি গঠনের মূল কারিগর। অথচ তাদের ন্যায্য প্রাপ্য, ভাতা, পদোন্নতি ও আর্থ-সামাজিক মর্যাদা এখনো যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য, উৎসব ভাতার অনুপস্থিতি, অবসরকালীন সুবিধার সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে শিক্ষক সমাজ আজ চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
“খালি থালা” কিংবা “প্লেট হাতে ভুখা মিছিল” শুধু ক্ষুধার প্রতীক নয়—এটি রাষ্ট্রের প্রতি এক নীরব প্রশ্ন, “আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগররা আজ নিজেরাই কেন অনিশ্চয়তার মধ্যে?”
রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল মহলকে এ আহ্বান শোনা উচিত। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, আর শিক্ষক সেই মেরুদণ্ডের ভিত্তি। তাদের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে শিক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে না—বরং সমাজে বৈষম্য আরও গভীর হবে।
সরকারের উচিত এই প্রতীকী আন্দোলনের বার্তা উপলব্ধি করে অবিলম্বে একটি সুসংহত শিক্ষক কল্যাণনীতি প্রণয়ন করা, যাতে আর কোনো শিক্ষককে খালি থালা হাতে রাস্তায় নামতে না হয়।
লেখক–
শিক্ষক ও সাংবাদিক
sharifsstyle@gmail.com
Leave a Reply